বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মরত যুগ্ম পরিচালক (ডি বি আই-৫) মারুফ মৃধার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনৈতিক কার্যকলাপ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
"বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড"-এর গ্রাহক ও কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, নিরীক্ষা পরিচালনার সময় মারুফ মৃধা কর্মকর্তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার হুমকি দিয়ে আর্থিক সুবিধা দাবি করেন। তার প্রস্তাবে রাজি না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করা হয়। এমনকি গ্রাহকদেরও ঋণ শ্রেণিকরণ করার ভয় দেখিয়ে সুবিধা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশারফের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে তিনি বিভিন্ন ঋণের সুদ মওকুফের সুপারিশ করতেন। তবে বোর্ড কর্তৃক কিছু সুদ মওকুফ না করায় তিনি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। গুলশান শাখার মিতালী লাইট ফিটিং, সোমার সেট প্রপার্টিজ লিঃ, প্রধান শাখার আজিজ কর্পোরেশন ও আগ্রাবাদ শাখার এস এ অয়েল রিফাইনারি লিঃ এর মতো গ্রাহকদের ঋণ সম্পর্কেও এ ধরনের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীরা আরও জানান, নিরীক্ষা চলাকালে মারুফ মৃধা ও তার সহকর্মীরা বিলাসবহুল খাবার, রেস্টুরেন্টের নাস্তা, ডাবের পানি, ব্যাংকের গাড়ি ব্যবহারসহ নানা সুবিধা নিতেন। এমনকি ব্যক্তিগত কাজেও ব্যাংকের গাড়ি ব্যবহার করা হতো। গ্রাহকের সিকিউরিটি ভিজিটের নামে বিভিন্ন জেলায় ভ্রমণ ও হোটেলে থাকা-খাওয়ার পাশাপাশি অবৈধ আর্থিক সুবিধা নেয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
এছাড়া, "একটি বাড়ি একটি খামার" প্রকল্প থেকে আঠারো জন সহকারী পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে সিনিয়র অফিসার পদে নিয়োগ দিতে গিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা করে অনৈতিক সুবিধা দাবির অভিযোগও উঠেছে মারুফ মৃধা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশারফের বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীদের দাবি, নতুন শাখা ও উপশাখা খোলার ব্যয়ের নিরীক্ষাতেও আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু কর্মকর্তাকে দায়ী করা হয়, অথচ প্রকৃত দায়ীদের আড়াল করা হয়।
সবশেষে অভিযোগকারীরা বলেন, “বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গ্রাহকদের কাছে মারুফ মৃধা এখন একটি অত্যাচারিত ও ঘৃণিত নাম।”
অভিযোগকারীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মারুফ মৃধার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।