বাক-স্বাধীনতা বলতে কথা বলার স্বাধীনতা সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করাও যাবে,উন্নত বিশ্বে এর বহুল চর্চা রয়েছে যদিও কিছু নির্দিষ্টতা ও রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে রাজনৈতিক নেতাদের পকেটে আইন এবং প্রশাসন থাকায় মন্তব্য করলেই আপনার জেল জুলুম এমনকি মারধর হত্যার ঘটনা শুনেছি যদিও আমাদের দেশেও সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।তবে, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে যুক্তিসঙ্গত কিছু বিধি-নিষেধ আরোপ করা যেতে পারে।
আজকাল মানুষ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উপর খুব বেশী নির্ভরশীল ফলে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ২০০৬ এর আইন নং ৩৯ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনটি স্বীকৃত হয়।
এই আইনটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রয়োজনীয় আইনী স্বীকৃতি এবং নিরাপত্তা প্ৰদান করে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনটি সমগ্র বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য হইবে,কম্পিউটার সাধারণ পরিবারের আইটেম হয়ে উঠেছে এবং বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৩ কোটি ৩৬ লক্ষ ১০ হাজার।
যদিও আমাদের দেশে খুব বেশী কম্পিউটার ভিত্তিক অপরাধ পুলিশের কাছে রিপোর্ট করা হয় না, আমরা নিজ মত প্ৰকাশে স্বাধীন নই,বিগত সময়ে দেখেছি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বাজে মন্তব্য পোস্ট করেন,“ যদি বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা হয় তাহেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার বোন তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আমার ভাগিনা” ফেইজবুকে এমন পোস্ট করায় পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়৷
২০২২ সালের ০৩ জানুয়ারি বাগেরহাট শহরের মুনিগঞ্জে জেলা ছাত্র দলের প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন,বাংলাদেশে আজ গণতন্ত্র নাই,বাক স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে এবং সর্বোপরি মানবাধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না।
টপ গেয়ার ব্যাটারির বংশালের ব্যবসায়ী ইমরান হোসেন বলেন,বিগত সরকারের আমলে আমরা বাক স্বাধীনতা পাইনি,আমরা সরকারের কাছে জিম্মি ছিলাম বর্তমানে অনেকটাই পাচ্ছি দাবী পূরণ হোক বা না হোক সবাই তাদের দাবীর কথা স্বাধীনভাবে বলতে পারছেন ফেইসবুকেও আমরা আমাদের মনের কথা প্রকাশ করতে পারি আসা করি আগামী যে সরকার আসবে তারাও আমাদের বাক স্বাধীনতা রক্ষা করবেন।
চাটখিল উপজেলা আইবিডব্লিউএফ পৌর সভাপতি বোরহান উদ্দিন সুমন বলেন,একটা দেশের মানুষের মূল স্বাধীনতা হলো কথা বলার স্বাধীনতা,মানুষের যখন বাক-স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়, যখন সে সত্য কে সত্য বলতে পারেনা,মিথ্যার পক্ষে কথা বলতে হয় বা চুপ থাকতে হয় এটাকেই ফ্যাসিবাদী বলে,যেটা গত ১৭ বছর আমরা দেখেছি, এখনো আমরা পুরোপুরি স্বাধীন হতে পারিনাই,পুরোপুরি স্বাধীন হতে হলে আল্লাহর আইনের শাসন কায়েম করতে হবে।
সর্বোপরি বলা যায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাক-স্বাধীনতা বেড়েছে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তো বাক-স্বাধীনতার বালাই ছিলোনা সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা গণমাধ্যম ও স্বাধীন ছিলোনা। আমি মনে করি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন হয়, আমাদের সরকারের উচিৎ সংবিধানের এই ধারাকে আরও সংশোধন করে মানুষকে তার মত প্রকাশের স্বাধীনতা প্রদান করা।
লেখক : সাংবাদিক।
আমার বার্তা/ইসমাইল হোসেন সজীব/এমই