ডিজিটাল, আধুনিক ও হয়রানিমুক্ত সেবা দিচ্ছে ডেমরা ভূমি অফিস। মো. জাকির হোসেন সহকারী কমিশনার (ভূমি), ডেমরা রাজস্ব সার্কেল, ঢাকায় ২৪-০৪-২০২৫ ইং তারিখে যোগদানের পর থেকেই নামজারি, অনলাইনে ভূমি উন্নয়নকর আদায় ও মিসকেস নিষ্পত্তিসহ নানা বিষয়ে সেবাগ্রহিতারা হয়রানিমুক্তভাবে সেবা পাচ্ছেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি), মো. জাকির হোসেন বলেন, মানুষকে হয়রানিমুক্ত সেবা দেওয়ার জন্যই আমরা সর্বোচ্চ কাজ করে যাচ্ছি। বহিরাগত দালালের দৌরাত্ম্য, হয়রানি ও এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তাদের কারণে ভূমি অফিস নিয়ে মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা আছে যেটা কাটিয়ে ডেমরা ভূমি অফিসের চিত্র পালটে দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি কিছু ভূমিদস্যু জাল দলিলের মাধ্যমে নামজারি করতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। এদের বিষয়ে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। বিসিএস ৩৭ তম ব্যাচের একজন দক্ষ, যোগ্য, চৌকস, নিষ্ঠাবান,কর্তব্যপরায়ণ কর্মকর্তা হিসেবে সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন মো. জাকির হোসেন। সম্প্রতি একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার সুনাম ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সাংবাদিকদের সরবরাহ করছে। একটি চক্র অসৎ উদ্দেশে বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ভূমি দস্যুদের বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় তিনি ষড়যন্ত্রমূলক আক্রোশের শিকার। যোগদানের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে সাড়ে কয়েক হাজার নামজারি ও শতাধিক মিসকেস নিষ্পত্তি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ডেমরা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাকির হোসেন। যেখানে জমি খারিজ করতে সময় লাগত ছয় মাস থেকে এক বছর। এখন সময় লাগে মাত্র ২৮ দিন। ডেমরা রাজস্ব সার্কেল (ভূমি) কার্যালয়ের চিরচেনা জটিলতা দূর করে দিয়েছেন এই কর্মকর্তা। কয়েকজন সেবা গ্রহিতার সাথে কথা বললে তারা বলেন,এসিল্যান্ড স্যার অত্যান্ত ভালো ভাবে আমাদের সমস্যা গুলো শুনেন এবং দ্রুততার সাথে সমাধান করেন, শুধু তাই নয়, এই কার্যালয়কে ডিজিটাল ও আধুনিক করে গড়ে তুলেছেন তিনি।
সরেজমিন দেখা যায়, পুরো কার্যালয় পরিপাটি করে সাজানো। গেটের প্রবেশমুখে অফিসের ফ্লো চার্ট। এর পাশেই সিটিজেন চার্টার। এতে জমির নামজারি করতে খরচ, খতিয়ান তোলার খরচ, খাসজমি বন্দোবস্ত নিতে করণীয়, কোন বিষয়ে কার সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করতে হবে। এসব তথ্য লেখা রয়েছে। ভূমি অফিসের সব কার্যক্রম সঠিক নীতিমালাসহ নিয়ম অনুযায়ী চলতে হবে, যাতে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অবিচল থাকে। ভূমি অফিসে দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়, এ ধারণা পালটে দিয়ে আস্থার বিষয়টি জাগ্রত করতে হবে। ঝামেলামুক্তভাবে ভূমি সংশ্লিষ্ট সব কর্মযজ্ঞ সঠিকভাবে সমাধান করাও একটি বড় সেবা, যা ডেমরা সার্কেলে অব্যাহত থাকবে।এক নজরে ডেমরা রাজস্ব সার্কেল : কোতোয়ালি থানার ৪৭, টয়েনবী সার্কুলার রোডস্থ (জয়কালি মন্দির) ওয়ারী মৌজার সি.এস ২৬০ নং এস.এ ১৮৫৪, ১৮৫৫ নং আর.এস ২৩০৪, ২৩০৫ এবং সিটি ৭২৫ নং দাগের ০.১৬৫০ একর অর্পিত সম্পত্তির উপর নির্মিত ভবনের দ্বিতীয় তলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি), ডেমরা রাজস্ব সার্কেল, ঢাকা কার্যালয় অবস্থিত। সার্কেলের মোট আয়তন ৩১ বর্গ কিলোমিটার। ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সংখ্যা ২টি। ডেমরা (মাতুয়াইল) ভূমি অফিস ও নন্দীপাড়া ভূমি অফিস।
সার্কেলাধীন মোট মৌজার সংখ্যা ২৭টি। এরমধ্যে ডেমরা (মাতুয়াইল) ভূমি অফিসে ১২টি। নন্দীপাড়া ভূমি অফিসে ১৫টি। ১নং রেজিস্টারের সংখ্যা (সিটি) ২৮৬টি। সার্কেলাধীন মোট দাগ সংখ্যা ১,৬৬,৫৬১টি। মোট খতিয়ান সংখ্যা (সিটি মূল খতিয়ান): ৫৩,২৬৫ টি। মোট জমির পরিমাণ ১১২৯১.৫৬০৯ একর। মোট কৃষি জমির পরিমাণ ৯২৩৭.৫৭৮২ একর। মোট অকৃষি জমির পরিমাণ ১৪৫৮.৮৯১৯ একর। মোট খাস জমির পরিমাণ ৫৬৫.১৪৪৩ একর। বন্দোবস্তযোগ্য জমির পরিমাণ ৭৬.৯৯৬১ একর। মোট অর্পিত সম্পত্তি পরিমাণ ৫৭৭.৩৩৪৭ একর। মোট মেট্রোপলিটন থানার সংখ্যা ৪টি। ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, সবুজবাগ ও খিলগাঁও। সর্বশেষ হালনাগাদকৃত হোল্ডিং এর তথ্য ১,৪১,১১৩টি (এপ্রিল/২০২৩ পর্যন্ত)। সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয় ২০১২ সালের মার্চে ডেমরা সার্কেল হতে বিভাজিত হয়ে মতিঝিল সার্কেল রূপে রূপান্তরিত হয়।
ভূমি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিষয়ে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে মাঠপর্যায়ে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠান হলো সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর অফিস। স্বত্বলিপি হালনাগাদ অবস্থায় সংরক্ষণসহ নামজারি ও জমা খারিজের মাধ্যমে রেকর্ডপত্র হালনাগাদকরণ। সরকারি জমি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা, ভিপি ও অর্পিত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, ভূমি উন্নয়ন কর নির্ধারণ ও আদায় এবং সায়রাত মহাল ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
আমার বার্তা/এমই