বিগত সরকারের আমলে দেশে একটি অলিগার্ক শ্রেণির আবির্ভাব হয়েছিল যারা লুণ্ঠনের মাধ্যমে নিজেদের উন্নতি করলেও সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করেনি। এমনকি দেশে কর্মসংস্থানের জন্যও তাদের কোনো আবদান ছিল না। এই অলিগার্কদের ক্ষমতা ভাঙতে হবে। ব্যবসায় প্রতিযোগিতার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে যাতে করে ব্যাপক উদ্যোক্তা শ্রেণি তৈরি হয়। ব্যবসায় নব্য শ্রেণির উৎপাদনমুখী বুর্জোয়া গোষ্ঠী প্রয়োজন। যারা দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করবে না বরং ব্যবসার, উদ্ভাবন এবং প্রতিযোগিতায় নিয়োজিত হবে। ফলে দেশে কর্মসংস্থান বাড়বে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্সে ‘ইকোনমিক স্ট্র্যাটেজিস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সেটেলমেন্টস: আওয়ার কারেন্ট ইকোনমিক চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড ওয়েস ফরোয়ার্ড’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন।
দুই দিনব্যাপী এই কনফারেন্সের আয়োজন করেছে ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স (দায়রা)। এখানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লন্ডনের সোয়াস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অর্থনীতির অধ্যাপক মুশতাক খান। সঞ্চালনা করেন চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন খান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘শেখ হাসিনার আমলে দুর্নীতিগ্রস্ত আমলাদের সহায়তায় নতুন অলিগার্ক শ্রেণির উদ্ভব হয়েছিলো। এখন সেখানে নতুন একটি উদ্যোক্তা শ্রেণি তৈরির সুযোগ এসেছে। উৎপাদনশীল একটি বুর্জোয়া শ্রেণি লাগবে, যারা লুণ্ঠন করবে না; বরং উদ্ভাবনের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা করবে। তবে তাদের উত্থানের জন্য পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
অস্থিতিশীল সামাজিক-অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর সংস্কার দাঁড় করানো বিপজ্জনক। দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যতে ঝুঁকি এড়াতে নতুন একটি উৎপাদনশীল উদ্যোক্তা শ্রেণি, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুশতাক খান বলেন, ‘নব্বইয়ের দশকে আমরা দেখেছি, দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলো অলিগার্ক শ্রেণির লোকজন। এরপরই দেশে মধ্যবিত্ত শ্রেণি শক্তিশালী হয়েছিলো। হাজার হাজার ক্ষুদ্র এ মাঝারি উদ্যোগ তৈরি হয়। শিল্পকারখানা গড়ে উঠে। তখন কর্মসংস্থান ভারতের চেয়ে দ্রুত বাড়ছিলো। চালকের আসনে ছিলো মধ্যম সারির উদ্যোক্তারা, যা চীনেরও সফলতার মূল শক্তি।’
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরে মধ্যবিত্ত থেকে আবার উচ্চবিত্তরা ক্ষমতাবান হয়ে ওঠে। নতুন অলিগার্ক শ্রেণির উদ্ভব হয়। এতে কেবল তাদেরই উন্নতি হয়। প্রবৃদ্ধি বাড়ে, তবে কর্মসংস্থান প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। এই অলিগার্কদের ক্ষমতা ভাঙতে হবে। ব্যবসায় প্রতিযোগিতার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। কারণ পুঁজিপতিরা ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে, যা রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলে নিয়ে প্রতিযোগিতার পরিবেশ নষ্ট করে। তাই সংস্কারের ক্ষেত্রে ভূরাজনীতির সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক সংযোগ ঘটাতে হবে।
আমার বার্তা/এল/এমই