শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের জন্য হচ্ছে নতুন আইন

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১১:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

মুনাফার পাশাপাশি ক্ষতির ভাগও নিতে হবে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের শেয়ার হোল্ডার ও আমানতকারীদের। এমন নিয়ম রেখে চূড়ান্ত হচ্ছে ইসলামী ব্যাংক কোম্পানি আইন। নতুন আইনে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া ইচ্ছাকৃত খেলাপি বা ব্যাংক পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঋণ, মুনাফা বা সুদ মওকুফ করা যাবে না। একইসঙ্গে পরিচালনা পর্ষদ গঠনে থাকছে না প্রচলিত ব্যাংকের নিয়ম।

২০২৪ সাল পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে ইসলামী ধারার ব্যাংকের অংশীদারিত্ব ২৪ শতাংশ। ১৯৮৩ সালে শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হলেও ইসলামী ব্যাংকের নেই নির্দিষ্ট নীতিমালা। এতোদিন প্রচলিত ব্যাংকিং আইনের অধীনে পরিচালিত হতো এসব ব্যাংক। ফলে শেয়ার বণ্টন, পরিচালনা পর্ষদ, ঋণ দান ও আদায় প্রক্রিয়া, মূলধন ও মুনাফা বণ্টনসহ নানা বিষয়ে সামঞ্জস্য পাওয়া যায় প্রচলিত ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে। 
 
সম্প্রতি এস আলমের নিয়ন্ত্রণাধীনসহ শরিয়াহ ভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকগুলোর ঢালাও ঋণ দিয়ে দেউলিয়া হওয়ার পথে এলে আবারো ব্যাংকগুলোর মূল উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ৫ আগষ্টের পর ব্যাংকগুলোতে নতুন পাওয়া পরিচালকেরাও বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাংকগুলো পরিচালনায় ব্যত্যয় হয়েছে মূলনীতি ও উদ্দেশ্যের।
 
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ইসলামী ব্যাংকিংয়ের মূল লক্ষ্য সার্বজনীন কল্যাণ নিশ্চিত করা। জনগণের সম্পদ জনগণের কাছেই ফিরিয়ে দেয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগৃহীত আমানত কয়েকজন বিশেষ সুবিধাভোগীর কাছে কনসেন্ট্রেটেড হচ্ছে। মতিঝিল ও গুলশানের কিছু বাছাই করা ব্যক্তি সেই সম্পদের সুফল ভোগ করছেন, অথচ সাধারণ মানুষ বঞ্চিত থাকছে। বর্তমানে যেসব ইসলামী ব্যাংকের মার্জারের কথা বলা হচ্ছে, তাদের ৩০০ থানায় একটি ব্রাঞ্চও নেই। ইসলামী ব্যাংকিং আইন আগে থেকে থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না।
 
প্রচলিত ব্যাংক ও শরিয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকের সমান গুরুত্ব দিতে ইসলামী ব্যাংক কোম্পানি আইন করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন আইনে পরিচালক পদের ৬ বছরের বেশি কেউ থাকতে পারবেন না। নীতি প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাসহ অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও পরিপালনের দায় রাখা হয়েছে পর্ষদের ওপর। এছাড়া নতুন আইনে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া ব্যাংকের বর্তমান বা সাবেক কোন পরিচালকের সঙ্গে সম্পর্কিত কোন ঋণ ও ইচ্ছাকৃত কোন খেলাপির ঋণ মওকুফ করতে পারবে না । পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হলেও ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য সমুন্নত রাখতে পরামর্শক হিসেবে কাজ করবে শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির মতো ছায়া পর্ষদ।
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, উদ্যোক্তাদের জন্য ধর্মীয় বা ইসলামিক ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার বাধ্যবাধকতা থাকছে না। তবে প্রতিটি ইসলামী ব্যাংকে একটি স্বাধীন শরিয়াহ বোর্ড থাকবে, যারা ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড যাচাই করবে। কোনো নতুন প্রোডাক্ট বাজারে আনা হলে সেটি ইসলামের মূলনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা, তা এই বোর্ড যাচাই করবে। আবার কোনো ব্যবসা ইসলামের বিপরীত হলে সেটি বাতিল করে দেয়ার ক্ষমতাও থাকবে।
 
মুনাফা বণ্টন ও শেয়ারের অংশীদারিত্বে শরিয়াহ্ আইনের নিয়মে লভ্যাংশের সঙ্গে ক্ষতির অংশীদার হবেন বিনিয়োগকারী ও আমানতকারীরা।
 
আরিফ হোসেন খান বলেন, ইসলামী ব্যাংকে বিনিয়োগ করলে কেবল লাভের আশায় আমানত রাখা যাবে না, ক্ষতির ঝুঁকিও মেনে নিতে হবে। ইসলামী ব্যাংকের অন্তরালে কনভেনশনাল ব্যাংকিং আর চলবে না। এখানে ব্যবসায় যেমন লাভ থাকবে, তেমনি ক্ষতির সম্ভাবনাও থাকবে। আমানতকারীদের সে মানসিকতা নিয়েই এগোতে হবে।
 
এছাড়া ইসলামী ব্যাংক আইনের আওতায় থাকা ব্যাংক অন্য কোন কোম্পানির শেয়ার কিনতে, লভ্যাংশ প্রদানের ওপর বিধি নিষেধ ও বাধ্যবাধকতা মানতে হবে ইসলামী ব্যাংকগুলোকে।

আমার বার্তা/এল/এমই